পাত্র নির্বাচনের মানদন্ড হোক তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র।
.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
يجب على ولي المرأة أن يتقي الله فيمن يُزوِّجها به، وينظر في الزوج هل هو كفؤ أم غير كفؤ، فإنه إنما يُزوجها لمصلحتها لا لمصلحته، وليس له أن يزوجها بزوج ناقص لغرضٍ له.
"নারীর অভিভাবকের ওপর আবশ্যক হলো—যাঁর সাথে তিনি মেয়েটির বিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা।এবং (বিয়ে ঠিক করার আগে) পাত্রের ব্যাপারে দেখা বা যাচাই করা যে, সে ‘কুফু’ (উপযুক্ত ও সমপর্যায়ের) কি না।কেননা, তিনি (অভিভাবক) মেয়েটিকে বিয়ে দিচ্ছেন মূলত মেয়েটির কল্যাণের জন্য,তাঁর নিজের কোনো স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়।আর নিজের কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে কোনো ত্রুটিপূর্ণ (অযোগ্য) পাত্রের সাথে তাকে বিয়ে দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই।"—[উৎস: ইবনু তাইমিয়্যাহ; জামেউল মাসায়িল;(৮/৪২২)]
.
শাইখুল ইসলাম এখানে মূলত একটি মৌলিক নীতি শিখিয়েছেন: অভিভাবকত্ব একটি আমানত, কোনো মালিকানা নয়। অভিভাবক মেয়ের ওপর নিজের কর্তৃত্ব খাটিয়ে কোনো ব্যক্তিগত ফায়দা (যেমন: ব্যবসার সুবিধা, সামাজিক প্রতিপত্তি বা দেনা-পাওনা) হাসিল করতে পারবেন না। পাত্র নির্বাচনে পাত্রের দ্বীনদারীতা এবং নৈতিক চরিত্রের গুণগত মানই হওয়া উচিত একমাত্র মানদণ্ড।সুতরাং নিজের ঋণের দায়মুক্তি, সামাজিক প্রতিপত্তি বা বৈষয়িক কোনো লাভের আশায় অযোগ্য পাত্রের হাতে মেয়েকে তুলে দেওয়া আমানতের খেয়ানত এবং শরয়ি দায়িত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।তাই আসুন,পাত্র নির্বাচনে দুনিয়াবি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে তাকওয়া ও চরিত্রকে অগ্রাধিকার দেই।(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)